হার্ট অ্যাটাক এখন আমাদের জন্য বড় ঝুঁকির নাম। বিশ্বে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের সংখ্যা। আমাদের হৃদপিণ্ডে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তা ধমনী হৃদযন্ত্রে আসে দিয়ে। এটি সরু হয়ে গেলে নালীর ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার ভয় থাকে। আর রক্ত যদি জমাট বেঁধে যায় তাহলে নালীর ভেতরের রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে হৃদযন্ত্রের পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়ায় সে অক্সিজেন প্রবাহিত করতে পারে না।  হার্ট অ্যাটাক তখনই হয় যখন হৃদপিণ্ডের ভেতর দিয়ে অক্সিজেন প্রবাহিত হতে পারে না।

হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণ:

* বুক ব্যাথা
* চোয়াল, ঘাড়, কনুই এবং পিঠে ব্যথা
* নিঃশ্বাসে দুর্বলতা
* ক্লান্তি
* ঠান্ডা ঘাম
* ঘুমের ব্যাঘাত
* বমি ভাব এবং বমি
* বুক ধড়ফড় করা বা বিনা কারণে অস্থির লাগা।

হার্ট অ্যাটাকের কারণ:

ধূমপান শরীরের নানা ক্ষতি করে। তার মধ্যে একটি হলো, এটি হার্ট অ্যাটাক ডেকে আনতে পারে। পাশাপাশি অ্যালকোহলও দায়ী হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের জন্য। 

অতিরিক্ত তেল বা চর্বি জাতীয় খাবার দীর্ঘদিন ধরে খেলে তা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে

হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় কারণ হতে পারে মানসিক চাপ।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে সেটিও হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের হাত ধরে আসতে পারে হার্ট অ্যাটাক।

ডায়াবেটিস বেড়ে গেলেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

কায়িক পরিশ্রম না করা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়:

হার্ট অ্যাটাক হলে রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন

যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে চেষ্টা করুন কৃত্রিম উপায়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চালু করার।

আক্রান্ত ব্যক্তির বমি পেলে তাকে একদিকে কাত করে দিতে হবে যেন সে সহজে বমি করতে পারে।

হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বুঝতে পারলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। 

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের উপায়:

ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি বাদ দিতে হবে অ্যালকোহল অথবা মাদক নেয়ার অভ্যাসও।

সব সময় মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে। যতটা সম্ভব হাসিখুশি ও নিশ্চিন্ত থাকার অভ্যাস করতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে সব সময়। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ডায়াবেটিসও। 

নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস করতে হবে, প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট শরীরচর্চা করতে হবে। নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ওজন।

রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। 

এইচএন