সম্প্রতি ভারতের কেরালা রাজ্যে এক তরুণীকে যৌন নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনাটি দেশে ও ভারতে আলোচিত হয়েছে। ভিডিও দেখে নিজের মেয়েকে শনাক্ত করেছেন রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার এক ব্যক্তি। থানায় গিয়ে তিনি মেয়েকে পাচারের মামলা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাতে হাতিরঝিল থানায় মামলা করে মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে দুবাইয়ে পাচার করার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে উলঙ্গ করে হাত পা মুখ চেপে নির্যাতন করে আনন্দ করেছে তারা।’ 

মামলার এজাহারে মেয়েটির বাবা জানান, তিনি মগবাজার এলাকার ফুটপাতে ব্যবসা করেন। তার মেয়ের ৬-৭ বছর আগে বিয়ে হয়। স্বামী ৩ বছর ধরে কুয়েতে থাকে। স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে সে আমার বাসায় ও শ্বশুরবাড়ি উভয় জায়গায় থাকত। মেয়েটি ১৫ মাস আগে আমাকে জানায় সে দুবাই যাবে। আমি তাকে নিষেধ করি। তবে এক বছর ধরে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। 

পরে আমি জানতে পারি, মগবাজারের রিফাদুল ইসলাম ওরফে টিকটক হৃদয় তাকে ফুসলিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করে। কিছুদিন আগে জানতে পারলাম মেয়েটি হৃদয়ের সঙ্গে ভারতে আছে। তবে সম্প্রতি ভিডিও দেখে আমি আমার মেয়েকে চিনতে পারি। ভিডিওতে  রিফাদুলকে দেখা গেছে, সেই আমার মেয়েকে নিয়ে গেছে।

মামলার এজাহারে ভিডিওতে করা নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মামলায় মানবপাচার প্রতিরোধ দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা দেওয়া হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছেন। এখন আমরা তদন্ত শুরু করব। ভুক্তভোগীকে দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। এছাড়াও আসামিদের ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ জেলার এক তরুণীকে ভারতের কেরেলা রাজ্যে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশেরই রিফাতুল ইসলাম হৃদয় (২৬) নামে এক যুবক জড়িত বলে সত্যতা পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। অভিযুক্ত যুবক রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুরে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ভারতে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি আমাদের নজরে আসে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০-২২ বছরের একজন তরুণীকে বিবস্ত্র করে ৩/৪ জন যুবক শারীরিক ও বিকৃতভাবে যৌন নির্যাতন করছে। ভিডিওটির একজনের সঙ্গে বাংলাদেশি একটি ছেলের ছবি মিলে যায়। এরপরই এ বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করি।

তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায়, নির্যাতনকারী ওই যুবকের নাম রিফাতুল ইসলাম হৃদয়। সে রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা। রিফাতুল ইসলাম হৃদয়ের পরিচয় তার মা ও মামার কাছ থেকে শনাক্ত করা হয়। এলাকায় সে টিকটক হৃদয় নামে পরিচিত।

এআর/ওএফ