নিত্যপ্রয়োজনে বাজার থেকে কত কিছু কিনতে হয়। কখনও প্রতিদিন আবার কখনও বিশেষ মুহুর্তেও অনেক কিছু কিনতে হয়। স্বল্প বাজেটে প্রয়োজনীয়, পছন্দের জিনিসটি পেতে চেষ্টা করেন সবাই। এজন্য অনেক সময় কারো ব্যবহৃত বস্তু বা কখনও সস্তা মার্কেটে যান অনেকে। কিন্তু এসব মার্কেটে অনেক সময় চুরির পণ্য বিক্রি করা হয়। সস্তায় কিনতে গিয়ে অন্যের থেকে অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নেওয়া পণ্য কিনে ফেলেন কেউ কেউ।

তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে - এসব পণ্য কেনা যাবে কিনা? কারো মনে আবার কিছুটা সন্দেহের উদয় হয় এটা ভেবে যে, আমি তো টাকা পরিশোধ করেই জিনিসটি কিনছি তাহলে এতে আমার দোষ কোথায়, যে চুরি করেছে, এর দায়ভার তার। 

যেমন একটি সমস্যার বিষয়ে জানতে চেয়ে একজন প্রশ্ন করেছেন-

‘এক লোক আমার কাছে একটি মোবাইল বিক্রি করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি জানি, এটা সে চুরি করে এনেছে। তা জানা সত্ত্বেও আমার জন্য ওই মোবাইল ক্রয় করা বৈধ হবে কি? কোথাও কোথাও চোরাই মার্কেট থাকে, যেখানে চুরিকৃত পণ্য কম দামে পাওয়া যায়। এসব চুরিকৃত পণ্য কি জেনেশুনে কেনা যাবে?’

এবিষয়ে ইসলামী আইন ও ফেকাহ শাস্ত্রবিদদের সমাধান হলো, জেনেশুনে চুরির পণ্য কেনা জায়েজ নয়। তাই বিক্রেতা চুরি করে কোনও পণ্য বিক্রি করছে একথা জানার পর  তা ক্রয় করা জায়েজ হবে না।

হাদীস শরিফে আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জেনেশুনে চুরিকৃত বস্তু ক্রয় করল সে-ও চুরির অপরাধে শরিক হয়ে গেল। –মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ২২৪৯৫; আততারগিব ওয়াত তারহিব ২/৫৪৮

বিখ্যাত তাবেয়ি মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন রহ. বলেন, আমি আবিদা আসসালমানি রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি চুরিকৃত বস্তু কিনতে পারব, অথচ আমি জানি এটা চুরিকৃত? তিনি বললেন, না, তুমি তা কিনতে পারবে না। -(প্রাগুক্ত)-শরহুল মাজাল্লাহ ১/২৬২; ইতরুল হেদায়া পৃ. ৬০

এছাড়া চুরির পণ্য ক্রয় করলে এতে করে চুরিকে উৎসাহিত করা হয়। এমন নয় যে আমি তো টাকা দিয়ে জিনিস কিনছি, গুনাহ হলে তারই হবে। কিন্তু এই ধারণা ভুল। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা খারাপ কাজে সহযোগিতা করতেও নিষেধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারো সহায়তা করো না।’ -( সুরা মায়েদা: ২)

এনটি