ইনিংসের শেষ বলে মিডউইকেটের দিকে ঠেলে দিয়েই ভোঁ দৌড়। হেলমেট খুলে অনেকদিন পর মুশফিকের সেই চিরচেনা উদযাপন। ২০২১ সালের মে মাসে ওয়ানডে সংস্করণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মুশফিক। এবার সেঞ্চুরিখরা কাটালেন তো বটেই, সেই সঙ্গেই বাংলাদেশি হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়লেন মিস্টার ডিফেন্ডেবল। স্রেফ ৬০ বলে ১৪ চার ও ২ ছক্কায় ১০০ রান পূর্ণ করেছেন তিনি। এতে ভেঙে গেছে সাকিবের করা দ্রুততম (৬৮ বল) সেঞ্চুরির রেকর্ডও।

সাদা বলের ক্রিকেটে রান পাচ্ছিলেন না নিয়মিত। ধীরগতির ব্যাটিং নিয়েও কাঠগড়ায় তুলছিলেন অনেকে। কেউ কেউতো এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, বয়স আর ফিটনেসের ভারে রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারছেন না মুশি। এমনকী আসন্ন ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ দলেও তাকে চাচ্ছিলেন না অনেকে। তবে মুশফিক সব সমালোচনা আর কটু কথার জবাব ব্যাট হাতেই দিচ্ছেন। জানান দিচ্ছেন, এখনো ফুরিয়ে যাননি। পারফরম্যান্সেও ভাটা পড়েনি তার।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন। প্রায় ১৭০ স্ট্রাইকরেটে ৩টি করে চার-ছক্কায় ২৬ বল খেলে ৪৪ রানের সুবাদে বাংলাদেশ সেদিন বড় সংগ্রহ পেয়েছিল। গল্পের শুরুটা ছিল সেদিন। আজ সেটা পরিপূর্ণতা পেল। ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহের (৩৪৯) দিনে সিলেটে রানের ফোয়ারা ছোটালেন মুশফিক। তার বিধ্বংসী ব্যাটে ভর করে রেকর্ড সংগ্রহ গড়েছে স্বাগতিকরা। 

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন অভিজ্ঞ এই কিপার-ব্যাটারের। ৬০ বলে ১৪ চার ও ২ ছয়ে ১০০ রান করেছেন তিনি। এতদিন দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ছিল সাকিবের দখলে। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। মুশফিকের নিজের দ্রুততম সেঞ্চুরি ছিল ৬৯ বলে, ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

এছাড়া একদিনের ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক দক্ষিণ আফ্রিকান এবিডি ভিলিয়ার্স। ২০১৫ সালে জোহানেবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৩১ বলে ১৪৯ রান করেছিলেন মারকুটে এই ব্যাটার। 

বাংলাদেশের সেরা চার দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড
মুশফিকুর রহিম -৬০ বল - প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড - সিলেট - ২০২৩ 
সাকিব আল হাসান - ৬৩ বল - প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে-  বুলাওয়ায়ো - ২০০৯
সাকিব আল হাসান - ৬৮ বল - প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে - মিরপুর - ২০০৯
মুশফিকুর রহিম - ৬৯ বল - প্রতিপক্ষ পাকিস্তান - মিরপুর - ২০০৯

এফআই