মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ/আইসিসি

‘উইকেটটা বেশ ভালো, অনেক রান হবে’-কথাগুলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। বাংলাদেশ অধিনায়ক যা বলেছিলেন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে টসের সময়। ‘অনেক রান’ হয়নি শেষমেশ। তবু ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জানালেন, উইকেটটা ভালোই ছিল। কিন্তু মাঝে যা হয়ে গেছে, তা বাংলাদেশকে দিয়ে গেছে একরাশ দুশ্চিন্তাই। ৬ রানের এই হারের পর নিজেদের ব্যাটিংকেই দুষলেন অধিনায়ক।

বল হাতে দারুণ শুরু, ৫৩ রানেই তুলে নেওয়া গিয়েছিল স্কটিশদের। তবে এরপরই স্কটল্যান্ড ফিরল ম্যাচে। তুলে ফেলল লড়াকু স্কোর। তবু অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বোলারদের তারিফই করলেন, ‘আমার মনে হয় বোলাররা ঠিক পথেই ছিল। তারা ৬০ রানের ভেতরই ৬ উইকেট ফেলে দিতে পেরেছে। কিন্তু এরপর বড় পার্টনারশিপ দাঁড়িয়ে গিয়েছে। আমি মনে করি স্কটল্যান্ডের ওই দুই ব্যাটার আমাদের চেয়ে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’

বাংলাদেশ অধিনায়ক কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন নিজেদের ব্যাটিংকে। তবে এর পেছনে উইকেটের কোনো দোষ নেই বলেও জানালেন তিনি। বললেন, ‘যেটা বললাম, ব্যাটিংয়ে প্রথম ৬ ওভারে আমরা ও রকম রান করতে পারিনি। এটা এমন একটা জায়গা, আমরা চেয়েছিলাম যেন পাওয়ার প্লেটা কাজে লাগাতে পারি। ১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে ভালো একটা শুরু প্রয়োজন। পরে মুশফিক, সাকিব কিছুটা কিছুটা রিকভারি করেছিল। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে আমরা ভালো করতে পারিনি। উইকেট ভালো ছিল কিন্তু আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি।’

এমন ব্যাটিংকে হতাশাজনক বলেই আখ্যা দিলেন রিয়াদ। বললেন, ‘খুবই হতাশাজনক। আমি মনে করি ফ্ল্যাট উইকেটে ১৪০ চেজেবল স্কোর। আমাদের ব্যাটিং ইউনিটে বেশ কিছু সমস্যা ছিল, যেটি আমি আগেই বলেছি। আমরা সেই ভুলগুলো শুধরে সামনের ম্যাচে কাজে লাগাবো।’

ব্যাটিংয়ের এমন ব্যর্থতা খুব বড়সড় এক চিন্তাই দিয়ে গেছে বাংলাদেশকে। অধিনায়ক রিয়াদ জানালেন, এ নিয়ে কাজ করতে হবে দলকে। বললেন, ‘আমার মনে হয় ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা হতাশ করেছি। এটা খুব বড় চিন্তার ব্যাপার। আমরা একের অধিক ভুল করেছি। পরের ম্যাচে আমাদের এই বিষয়ে নজর রাখতে হবে। আমাদের আমাদের দুর্বলতাগুলো নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে এসব ভুল যেন সামনের ম্যাচে আর না হয়।’
 
দীর্ঘ ১৯ মাস পর গ্যালারির সমর্থন পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরও এমন হার। তাতে হতাশার অন্ত নেই বাংলাদেশ অধিনায়কের। মাহমুদউল্লাহর কথা, ‘মাঠ এবং উইকেট দুর্দান্ত ছিল। দর্শকের বেশ ভালো সাপোর্ট আমরা পেয়েছিলাম। কিন্তু এটা খুবই হতাশাজনক।’

এমন কিছু যদি পরের দুই ম্যাচেও ঘটে তাহলে কী পরিণতি হবে, সেটা জানিয়েও দলকে সতর্ক করে দিলেন অধিনায়ক, ‘আমরা এখন যদি এই জিনিসগুলা খেয়াল না করি, আগামী ম্যাচগুলোতে একই ভুল গুলো করি, তাহলে সামনের ম্যাচগুলোতেও ভালো কিছু হবে না খুব সম্ভবত। অবশ্যই আমি ফ্রাস্টেটেড। এই মুহূর্তে আমার ফ্রাস্টেটেড না হয়ে কোনো উপায়ও নেই। যেটা বারবারই বলা লাগছে ব্যাটিংটাই আমাদের মূল চিন্তার বিষয়। আমাদের ভালো ব্যাটিং করতে হবে।’

এই হারের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে ওমানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। যে ওমান এই পর্বের স্বাগতিক, যারা আবার প্রথম ম্যাচে জিতেছে ১০ উইকেটের ব্যবধানেও। সব মিলিয়ে প্রথম ম্যাচে হারের পর পরিস্থিতিটা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য।

এনইউ