নতুন ফোন চালু করলে নিবন্ধনের জন্য মিলবে ৯০ দিনের সময়সীমা
নতুন বছরে মোবাইল ফোন নিবন্ধন নীতিমালা কার্যকর হলেও গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো চাপ নেই। ১ জানুয়ারির পর নতুন কোনো মোবাইল ফোন চালু করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯০ দিনের একটি সময়সীমা পাবেন, যার মধ্যে ফোনটি ব্যবহার করা যাবে এবং প্রয়োজন হলে নিবন্ধনের আবেদন করা যাবে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, এই সময়সীমা রাখা হয়েছে যেন প্রবাসী ও সাধারণ গ্রাহকরা আতঙ্কিত না হন এবং ধাপে ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, মোবাইল ফোন নিবন্ধন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে। এ তারিখের আগে যেসব হ্যান্ডসেট ইতোমধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্কে সক্রিয় ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এক-দুটি নম্বর অপারেটরদের পাঠানো তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। তবে সংখ্যা খুবই কম। এ ধরনের অভিযোগ ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে এবং সেগুলো সমাধানের কাজ চলমান রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত সাতটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেগুলো সমাধান করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আমিনুল হক জানান, ১ জানুয়ারির পর কোনো নতুন ফোন যেটি আগে বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে ব্যবহার হয়নি সেটি চালু করলে সেটি নিবন্ধনের আওতায় পড়বে। যদি ফোনটি বৈধভাবে দেশে আমদানি করা হয়ে থাকে বা আগে বৈধভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।
তিনি বলেন, যারা বিদেশ থেকে ফোন কিনে এনেছেন কিন্তু আগে ব্যবহার করেননি অথবা প্রবাসীরা দেশে এসে নতুন ফোন চালু করলে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফোন চালুর দিন থেকে ৯০ দিনের একটি সময়সীমা পাবেন। এই সময়ের মধ্যে ফোনটি ব্যবহার করা যাবে।
প্রবাসীদের বিষয়ে তিনি জানান, কেউ যদি দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসে ফোন ব্যবহার করে আবার চলে যান, তাহলে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। তবে কেউ যদি তিন মাসের বেশি সময় দেশে থাকেন, তাহলে তাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট জমা দিয়ে ফোন নিবন্ধন করতে হবে। ইমিগ্রেশনের সিলসহ ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র দিলে সেটি অনুমোদন দেওয়া হবে।
একজন সাধারণ নাগরিক বিদেশ থেকে বৈধভাবে একটি ফোন আনলে সেটিও নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। বিটিআরসির ডাটাবেজে যাচাই করে দেখা হবে, তিনি একাধিক ফোন এনেছেন কি না। শর্ত পূরণ হলে ফোনটি নিবন্ধন করা হবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জন্য তিনটি পদ্ধতির কথা জানান বিটিআরসির এই কর্মকর্তা। প্রথমত, সরকারের সিটিজেন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এখানে ফোন নিবন্ধন, চুরি বা হারানো ফোন ব্লক, আনব্লক, বিদেশি ভ্রমণ সংক্রান্ত আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাবে। আবেদন জমা পড়লে বিটিআরসির টিম প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেগুলো যাচাই ও নিষ্পত্তি করবে।
দ্বিতীয়ত, বিটিআরসির হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়া যাবে। কেউ যদি অনলাইনে আবেদন করতে না পারেন, তাহলে হেল্পলাইনের মাধ্যমে তার সমস্যা বুঝে সংশ্লিষ্ট আবেদন কেন্দ্রীয় সিস্টেমে পাঠানো হবে।
তৃতীয়ত, মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার থেকেও সহায়তা পাওয়া যাবে। অপারেটরদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা গ্রাহকের পক্ষে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিতে সহায়তা করেন।
আমিনুল হক বলেন, নতুন ব্যবস্থাটি ব্যাপক পরিসরের হওয়ায় শুরুতে কিছু কারিগরি সমস্যা হতে পারে। এ জন্য তিন মাসের সময়সীমা রাখা হয়েছে, যাতে কেউ আতঙ্কিত না হন এবং ধীরে ধীরে সব সমস্যা সমাধান করা যায়।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কিছু সিম ব্লক হওয়ার অভিযোগ এসেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর একসঙ্গে দুটি বিষয় কার্যকর হয়েছে— নতুন ফোন নিবন্ধন এবং একজন গ্রাহকের নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে সেগুলোর স্বয়ংক্রিয় বন্ধ। এই দুটি বিষয় একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কার্যকর লাগাম টানতে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর যুক্ত হচ্ছে জাতীয় ডাটাবেজে। ফলে এখন থেকে আর কোনো আনঅফিশিয়াল ফোন দেশের নেটওয়ার্কে সক্রিয় হবে না।
আরএইচটি/এসএম