বিজ্ঞাপন

দুর্বৃত্তের হামলায় আহত চাকসু নেতা মাসুম বিল্লাহ

অ+
অ-
দুর্বৃত্তের হামলায় আহত চাকসু নেতা মাসুম বিল্লাহ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় তার শরীরে ব্লেড-ক্ষুর দিয়ে জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে হাটহাজারীতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাকসুর নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান সোহান।

হামলার বিষয়ে মাসুম বিল্লা নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে জানান, গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুরুতর আহত করে চলে যায় কয়েকজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমঝোতা না করে শিক্ষার্থীদের ওপরে সমঝোতার দায়িত্ব দেওয়া হয়। যার ফল আজকে সমঝোতাকারী হিসেবে হামলার সম্মুখীন হতে হয়। ব্লেড এবং ক্ষুর দিয়ে শেষ প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা।

জানতে চাইলে চাকসুর নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান বলেন, আমরা একসঙ্গে চাকসুতে ছিলাম। সেখান থেকে মাসুম বাইকে তেল নেওয়ার জন্য হাটহাজারী গিয়েছিল। ওরা (হামলাকারীরা) সম্ভবত ওখান থেকেই অনুসরণ করেছে। পরে রাস্তা আটকিয়ে ওকে অনেক মারধর করে। ওদের হাতে ক্ষুর ছিল। এটি দিয়ে তার মাথা ও শরীরে জখম করা হয়েছে। তার সঙ্গে তার ভাগিনা ছিল তাকেও মারধর করেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে হামলাকারীদের মধ্যে দুইজন ক্যাম্পাসে বাইক দিয়ে ঘুরতে এসে এক শিক্ষার্থীকে আহত করেছিল। ওই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সমঝোতার জন্য মাসুম কাজ করেছিল। ওটার জের ধরেই মাসুমকে টার্গেট করা হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, আমরা প্রক্টরিয়াল বডির এক সদস্যকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন, কয়েকজন মিলে মাসুম বিল্লাকে মেডিকেলে নিয়ে আসেন। তার চোখের ওপরে ক্ষুর বা ছুরি—এ জাতীয় কিছু দিয়ে কাটার দাগ ছিলো। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কিল-ঘুসি দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ মো. আরিফুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক বাইক চালক বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামানকে বাইকের ধাক্কায় আহত করেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি সমঝোতা করেছিলেন চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ। এ ঘটনায় চবি শিক্ষার্থীর চিকিৎসা বাবদ ২০ হাজার টাকা প্রদান ও সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাইকটি নিরাপত্তা দপ্তরের অধীনে থাকার শর্তে মুচলেকা দিয়েছিল আরিফুল ইসলামের বাবা। এই ঘটনায় জেরে মাসুম বিল্লাকে হামলা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন চাকসুর নেতৃবৃন্দ।

আতিকুর রহমান/এমএন