মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো পটুয়াখালীতেও গত এক সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা পেট্রোল ও অকটেনের সংকটে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেলের বাজারে। জ্বালানির অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় বিক্রি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (৩১ মার্চ) দুপুরে শহরের বিভিন্ন মোটরসাইকেল শোরুম ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
পটুয়াখালীর টোলপ্লাজা-সংলগ্ন মেসার্স নাদিরা মটরসের ম্যানেজার মো. আবুল হোসেন বলেন, তেলের সংকটের কারণে আগের থেকে মানুষ একটু কম আগ্রহ দেখায়। তারা মনে করে, তেলের সমস্যা, তারা কীভাবে বাইক চালাবে। সেই হিসেবে আগের থেকে এখন একটু বিক্রি কম। গত রমজান মাসের আগে যখন বাজারে তেল স্বাভাবিক ছিল, তখন বিক্রি আরও বেশি ছিল।
বিজ্ঞাপন
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পটুয়াখালী চৌরাস্তা এলাকার মেসার্স মৃধা বাইক ট্রেডার্সের ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ আল মিরাজ। তিনি বলেন, গত মাসে আমাদের মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছিল ১৮টি। চলতি মাসে বিভিন্ন অফার চলমান থাকায় মোট ২৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। তবে তেলের সংকট শুরুর পর থেকে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪টি।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার পুরাতন মোটরসাইকেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠান স্মার্ট বাইক পয়েন্টের স্বত্বাধিকারী মো. হিরন আহমেদ বলেন, আগের তুলনায় বিক্রি কিছুটা কমেছে। গত মাসে যতগুলো মোটরসাইকেল বিক্রি করেছি এ মাসে ততগুলো বিক্তি হয়নি।
অন্যদিকে, জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা হেলমেট-সংক্রান্ত কোনো কঠোর নির্দেশনা না থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল আসলে সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে তা সংগ্রহ করতে পারছেন। ফলে নতুন করে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি, যদিও সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যার ফলে অনেকেই বৈধ কাগজপত্র করার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পটুয়াখালী অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য মোট ৮৩টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি সংকট শুরুর পর গত এক সপ্তাহে লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৫৬টি। একই সময়ে মোটরযান রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন হয়েছে ১৯টি, যার মধ্যে ঈদের পর ২৪ মার্চ থেকে জমা হয়েছে ১১টি আবেদন।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এসব আবেদন বৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি সংকট নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পটুয়াখালী অফিসের সহকারী পরিচালকের (ইঞ্জি.) কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক সাঈদ সিদ্দিক বলেন, আমাদের এখানে রেজিস্ট্রেশন বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন তেমন বৃদ্ধি পায়নি, আগের মতোই। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় অভিযানে গাড়ি ধরা হচ্ছে, এজন্য অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন বৈধ কাগজ করাতে।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এএমকে
