ভাইরালের ভিড়ে আশার আলো : বিনোদনে আলাদা পথচলা ঢাকা পোস্টের

পাঁচ বছর পেরিয়ে ঢাকা পোস্ট। সংবাদমাধ্যমের জীবনে সময়টি খুব দীর্ঘ না হলেও কমও নয়। এই পাঁচ বছরে বদলেছে প্রযুক্তি, পাঠকের অভ্যাস, সংবাদ প্রকাশের ধরণ। কিন্তু একটি বিষয় বদলায়নি, সেটি সংবাদের মান নিয়ে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বুকে নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিল অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্ট।
শুরু থেকেই ঢাকা পোস্ট ধারণ করেছে একটি প্রতিপাদ্য ‘সত্যের সঙ্গে সন্ধি’। এই বাক্য শুধু স্লোগান নয় বরং সম্পাদকীয় নীতির মেরুদণ্ড। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে অর্থনীতি কিংবা সংস্কৃতি ও বিনোদন সবখানেই নির্ভুল, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতাই ছিল মূল লক্ষ্য। বিনোদন বিভাগও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দ্রুততম সময়ে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো উদাসীনতা দেখায়নি বিভাগটি।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে
গত পাঁচ বছরে বিনোদনের পরিসরে বদল ছিল অভাবনীয়। টেলিভিশননির্ভর দর্শক এখন মোবাইল স্ক্রিনে বড় পর্দার পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। দর্শকের রুচিও হয়েছে বহুমাত্রিক। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকা পোস্টের বিনোদন বিভাগ নজর রেখেছে সবখানেই।
টেলিভিশন নাটক, সিনেমা, ওয়েব ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ কোনো মাধ্যমকেই ছোট করে দেখেনি ঢাকা পোস্ট বরং চেষ্টা করেছে সুস্থ ও মানসম্মত বিনোদনের খবর তুলে ধরতে। তারকাদের ব্যক্তিজীবন নিয়ে অযথা কৌতূহল সৃষ্টি নয় বরং তাদের শিল্পচর্চা, সংগ্রাম ও সৃজনশীলতার গল্পকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আজ যখন অনলাইন মাধ্যমগুলো ‘ক্লিক’-এর প্রতিযোগিতায় চটকদার শিরোনামকে হাতিয়ার করেছে, তখন ঢাকা পোস্ট বেছে নিয়েছে ভিন্ন পথ।
বৈচিত্র্যে ভরপুর কনটেন্ট
ঢালিউড থেকে বলিউড, হলিউড তথা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ঘটনাপ্রবাহও নিয়মিত স্থান পেয়েছে বিনোদন পাতায়। অস্কার মঞ্চের আলোচনার পাশাপাশি সমান গুরুত্ব পেয়েছে বিকল্পধারার চলচ্চিত্র।
এছাড়াও সিনেমার চিত্রনাট্য, নির্মাণশৈলী, সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা এসব নিয়েও প্রকাশিত হয়েছে বিশ্লেষণধর্মী লেখা। ফলে পাঠক একটি চলচ্চিত্র সম্পর্কে পেয়েছেন গভীর ও পরিপূর্ণ ধারণা। ওয়েব ফিল্ম ও সিরিজের উত্থানের সময়েও সুস্থ সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে দর্শক ভালো কনটেন্ট বেছে নিতে পারেন।
ভাইরাল সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে ভালো গল্পের নাটক বা স্বাধীন নির্মাতার কাজ তুলে ধরার চেষ্টা ছিল সচেতন প্রয়াস। এতে যেমন নতুন নির্মাতারা উৎসাহ পেয়েছেন, তেমনি পাঠকও পেয়েছেন বিকল্প স্বাদ।
তারকা নয়, মানুষটিকে দেখার চেষ্টা
ঢাকা পোস্ট তারকাদের স্ক্যান্ডাল খোঁজেনি, খুঁজেছে তাদের সংগ্রামের গল্প। একজন শিল্পী কীভাবে সাধারণ জীবন থেকে আইকনে পরিণত হন সেই যাত্রাপথের গল্পই হয়ে উঠেছে প্রতিবেদনের কেন্দ্রবিন্দু।
তারকাদের বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাদের শিল্পদর্শন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম। পাশাপাশি আলো পেয়েছেন পর্দার আড়ালের কারিগর তথা নির্মাতা, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, সংগীত পরিচালক যাদের অবদান ছাড়া একটি সৃষ্টি পূর্ণতা পায় না অথচ প্রায়ই আলোচনার বাইরে থেকে যান। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিই বিনোদন সাংবাদিকতায় আলাদা পরিচিতি দিয়েছে ঢাকা পোস্টকে।
অপসাংবাদিকতার ভিড়ে নীতির লড়াই
ডিজিটাল যুগে ‘ভাইরাল’ হওয়ার প্রতিযোগিতা অনেক সময় সংবাদকে পেছনে ঠেলে দেয়। শিরোনামে অস্পষ্ট ইঙ্গিত, বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন হয়ে ওঠে সহজ কৌশল। কিন্তু ঢাকা পোস্ট সেই স্রোতে গা ভাসায়নি। শিরোনামে ঘটনার সারাংশ তুলে ধরা, তথ্যসূত্র স্পষ্ট রাখা, গঠনমূলক সমালোচনা করা এই নীতিই ছিল অটুট।
কোনো তারকা বা সিনেমা নিয়ে অযথা নেতিবাচক প্রচারণা নয় বরং প্রয়োজন হলে যুক্তিনির্ভর সমালোচনা। এই অবস্থানই প্রমাণ করেছে, সুস্থ বিনোদনেরও একটি বিশাল পাঠকশ্রেণি রয়েছে। পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, পাঠক এখন মানসম্মত কনটেন্ট খোঁজেন। তিনি সত্য ও সুন্দরের পক্ষেই থাকতে চান।
হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের সারথি
সময়ের স্রোতে অনেক কিছু হারিয়ে যায়। ডিজিটাল যুগে যখন বিনোদন মানেই তাৎক্ষণিক উত্তেজনা, তখন অতীতের ঐতিহ্যকে মনে রাখা ও তুলে ধরা হয়ে ওঠে এক বড় দায়িত্ব। সেই দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছে ঢাকা পোস্ট।
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগ, মঞ্চনাটকের উজ্জ্বল অধ্যায়, ব্যান্ডসংগীতের উত্থান কিংবা লোকগানের বিস্মৃত শিল্পী এসব নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাভিত্তিক ফিচার। পুরোনো সাক্ষাৎকারের পুনঃপ্রকাশ, প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ সব মিলিয়ে অতীতকে বর্তমানের সামনে নতুনভাবে হাজির করার প্রয়াস ছিল ধারাবাহিক।
হারানো মুখগুলোর পুনরুত্থান
অনেক শিল্পী আছেন, যারা একসময় দর্শক হৃদয়ে রাজত্ব করলেও সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছেন আলো থেকে। তাদের জীবনসংগ্রাম, শিল্পচর্চা ও অবদান তুলে ধরা হয়েছে শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে। এতে শুধু অতীত স্মরণ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে মূল্যবান তথ্যভান্ডার। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সংরক্ষণক্ষমতা। পুরোনো চলচ্চিত্র, নাটক, গান বা স্মৃতিচারণ এসব অনলাইনে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে ঐতিহ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলেছে ঢাকা পোস্ট।
সামনে পথচলার অঙ্গীকার
বিনোদনের জগৎ দ্রুত বদলায়। নতুন মাধ্যম, নতুন তারকা, নতুন ধারা সবই আসবে। কিন্তু নীতি ও মানের প্রশ্নে আপস না করার যে অবস্থান, সেটিই হবে আগামী দিনের শক্তি। সস্তা জনপ্রিয়তা নয় বস্তুনিষ্ঠ ও মানসম্মত সাংবাদিকতার মাধ্যমেই পাঠকের হৃদয় জয় করতে চায় ঢাকা পোস্ট। কারণ এই পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, আস্থা একদিনে তৈরি হয় না, কিন্তু একবার তৈরি হলে সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় সম্পদ।