কেন্দ্রে উপস্থিত পোলিং এজেন্ট, বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে দায়িত্ব

ভোরের আলো ফুটতেই ভোটকেন্দ্রের বারান্দায় ব্যস্ততা। আর কিছু সময় পরেই শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। কেন্দ্রগুলোতে একে একে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এজেন্টদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাদের প্রয়োজনীয় দায়িত্ব ও করণীয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা-১৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত মোহাম্মদপুর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশাভেজা সকালে আলো ফুটতে না ফুটতেই প্রার্থীরা তাদের এজেন্টদের কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা তাদের পরিচয়পত্র যাচাই করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন এবং ভোট কক্ষের শৃঙ্খলা ও নিয়মাবলি বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
এই কেন্দ্রেই সকাল আটটার দিকে ভোট দেবেন জামায়াত জোটে মনোনীত ‘রিকশা’ প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মো. মামুনুল হক।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হেভিওয়েট বেশ কয়েকজন প্রার্থী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়ছেন এনডিএম প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন–
মিজানুর রহমান: ট্রাক প্রতীক (গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি), সোহেল রানা: কলস প্রতীক (স্বতন্ত্র), মো. শাহাবুদ্দিন: রকেট প্রতীক (বিএমজেপি), মো. খালেকুজ্জামান: মই প্রতীক (বাসদ), শাহরিয়ার ইফতেখার: হারিকেন প্রতীক (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), ফাতেমা আক্তার মুনিয়া: আপেল প্রতীক (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), শেখ মো. রবিউল ইসলাম: ঘুড়ি প্রতীক (স্বতন্ত্র)
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঢাকায় ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ নিরাপত্তা ছাড়াও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ এবং ক্রাইম সিন ভ্যান স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে আছে।
সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক। এ ছাড়া নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
ভোটের মাঠে অপরাধের বিচারে কাজ করছেন– ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এসেছেন ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক। দেশীয় ৮০টি সংস্থার প্রায় ৪৫ হাজার পর্যবেক্ষকও এই বিশাল কর্মযজ্ঞ তদারকি করছেন।
এমএসআই/বিআরইউ