যুক্তরাজ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবাসীদের ঈদুল ফিতর উদযাপন

এক মাস সিয়াম সাধনার পর যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকেই দেশটির বিভিন্ন শহরের মসজিদ ও পার্কের খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব লন্ডনের ইস্ট লন্ডন মসজিদে। সকাল ৭টায় প্রথম জামাত শুরু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ৮:৩০, ৯:৩০ এবং ১০:৩০ মিনিটে আরও তিনটি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি জামাতেই মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া ঐতিহাসিক ব্রিকলেন জামে মসজিদে সকাল ৮টা থেকে প্রতি ঘণ্টা অন্তর মোট চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লন্ডনের বাইরেও বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার ও ওল্ডহামসহ অন্যান্য শহরের পার্কগুলোতে খোলা মাঠে বড় বড় জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইস্ট লন্ডন মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা নাহিদ জায়গীদার বলেন, ব্রিকলেন বা ইস্ট লন্ডন মসজিদে নামাজ আদায় করলে দেশের ঈদের আমেজ পাওয়া যায়। মনেই হয় না আমরা প্রবাসে আছি। যদিও লন্ডনের বাইরে বাঙালির সংখ্যা কম হওয়ায় আমেজ কিছুটা কম থাকে, তবে আনন্দের কমতি নেই।
আরেক মুসল্লি মির্জা আবুল কাসেম বলেন, ঈদ হলো পরিবার ও বন্ধুদের একত্রিত হওয়ার এবং উপহার আদান-প্রদান করার সময়। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মুসলিমদের মাঝে ইদানীং এই সংস্কৃতি বেশ জোরালোভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তবে উৎসবের এই দিনে অনেকের মনে আক্ষেপও ছিল। বিশেষ করে যারা রেস্টুরেন্ট বা অন্যান্য জরুরি সেবায় কাজ করেন, তারা ঈদের দিনে ছুটি না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। স্বজনদের ছেড়ে প্রবাসে ঈদের দিনেও কাজে ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় তরুণ প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।
এ বিষয়ে এস কে আশরাফুল হুদা বলেন, ব্রিটেনে রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের উচিত ঈদের দিনে ছুটি ঘোষণা করা। এটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন যাতে কর্মীরা অন্তত এই বিশেষ দিনটি পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারেন।
এমএসএ