রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ আনন্দ মিছিল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে ঈদ আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি রাজধানীর পুরানা পল্টন ও বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ঈদ আনন্দ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে কামরুল আহসান, শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ।
বিজ্ঞাপন
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে খুশির সওগাত নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দ্বারে সমাগত। ঈদুল ফিতর ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে শান্তি ও সহমর্মিতার অনুপম শিক্ষা দেয় এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা জোগায়। আমরা যদি বাস্তব জীবনে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে পারি, তাহলেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশবাসী দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছে। জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী প্রথম ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে দেশবাসী। নতুন সরকারের প্রতি জনগণের অনেক প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। জনগণ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা চায়। জাতির প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতে ইসলামী সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশ এবং দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে ও বাইরে জনগণের পক্ষে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। জুলাই আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদ এবং আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী যোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেন যে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম চলেছে, ঠিক সেভাবেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদ হলো ঐক্যের প্রতীক। সকলেরসঙ্গে একাকার হওয়ার প্রেরণাই হলো ঈদ। তাই আমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির চেতনা যদি অটুট থাকে, তবে আগামীর সমাজ হবে ন্যায়, ইনসাফ ও শোষণহীন এক আদর্শ সমাজ। সেই সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আমরা ঈদের প্রকৃত খুশি সকলে মিলে উপভোগ করব, ইনশাআল্লাহ।
নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে দল-মত এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের প্রিয় নগর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বস্তরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত এক আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ জনপদ গড়ে তুলি। মহান রব আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং জাতির কল্যাণে আমাদের নিবেদিত রাখুন। সেই সঙ্গে সবাইকে আবারও আন্তরিকভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
এএসএস/এমএসএ