২০২১ থেকে ২৬ : ক্রীড়াঙ্গনে ঢাকা পোস্টের পাঁচ বছর

করোনা মহামারী পরবর্তী সময় ঢাকা পোস্টের পথচলা শুরু হয়। সাংবাদিকতায় তখন নানা চ্যালেঞ্জ। ক্রীড়া সাংবাদিকতায় আরও বেশি। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশে-বিদেশে নানা টুর্নামেন্ট, গেমস স্থগিত এবং বাতিল হচ্ছিল হরহামেশা। লকডাউনে ছিল না কোনো খেলাধুলা। এরপরও তো আর নিউজ থেমে থাকে না। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে যাত্রা শুরু করা ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া বিভাগ এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও গণমাধ্যমে আস্থার এক নাম।
২০২১ সাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের বছর। ১-৫ জুলাই শতবর্ষে ঢাবি ও ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে ঢাকা পোস্টে পাঁচ পর্বের বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদন হয়। ঐ প্রতিবেদন রিপোর্টারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পায়। আত্মপ্রকাশের আট মাসের মধ্যে এই স্বীকৃতি ঢাকা পোস্টকে মিডিয়ায় ও ক্রীড়াঙ্গনে অল্প সময়ে দ্রুত বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়। ধারাবাহিকভাবে গত পাঁচ বছরে ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদন জাতীয়, আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ১৬ টি স্বীকৃতি পেয়েছে। যা ঢাকা পোস্টকে আলাদা স্বাতন্ত্র্যতা প্রদান করেছে।
ঢাকা পোস্ট সব সময় ক্রীড়াঙ্গনের সকল খবর প্রকাশের সর্বাত্মক চেষ্টা করে। ফুটবল, ক্রিকেটের নানা ব্যস্ত সূচির মধ্যেও অন্য সকল খেলাকেও ঢাকা পোস্ট গুরুত্ব প্রদান করে আসছে শুরু থেকে অদ্যবধি। সব ধরণের খেলা বিকশিত ও প্রচার গণমাধ্যমের দায়িত্ব মনে করে ঢাকা পোস্ট। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়, কোচ, সংগঠক, আম্পায়ার, রেফারি ও সাংবাদিক সবার অবদান রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের প্রয়াণের খবর ঢাকা পোস্ট অত্যন্ত গুরুত্ব ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রকাশ করে।
গত পাঁচ বছরে ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া প্রতিবেদন জাতীয়, আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ১৬ টি স্বীকৃতি পেয়েছে। ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া সম্পর্কিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক বাংলায় একাধিকবার স্থান পেয়েছে।
ক্রীড়াঙ্গনে ব্যস্ততা বেড়েছে অনেক। প্রতিদিন অসংখ্য খেলা, আবার খেলার আগে-পরে সংবাদ সম্মেলন নানা ইভেন্ট। এত কিছুর মধ্যেও ঢাকা পোস্ট দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মৌলিক সমস্যা, সম্ভাবনা নিয়ে প্রতি বছরই অনুসন্ধানী বিশেষ প্রতিবেদন করে। ২০২২ সালে মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, ২০২৩ সালে ক্রীড়াঙ্গনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ২০২৪ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ২০২৫ সালে বিকেএসপির ওপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া সম্পর্কিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক বাংলায় একাধিকবার স্থান পেয়েছে।
গণমাধ্যমের অন্যতম কাজ সমাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরা। ঢাকা পোস্ট ক্রীড়াঙ্গনের অন্যায়-অনিয়ম নিঃসংকোচে প্রকাশ করে। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনের পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন একাধিকবার নানা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঢাকা পোস্ট অন্যায় যেমন তুলে ধরেছে তেমনি ক্রীড়াঙ্গনের মানবিক দিকও প্রকাশ করেছে। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে অসহায় ক্রীড়াবিদ, অসুস্থ ক্রীড়াবিদরা নানাভাবে উপকৃত হয়েছে।
তারুণ্য দেশের শক্তি। ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া বিভাগ সব সময় ক্রীড়াঙ্গনের তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। বিশেষ করে ক্রিকেটে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার, ফিচার আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে করে আসছে। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক অবদান নারীর। নারী ক্রীড়াবিদদের সমস্যা, সম্ভাবনা বরাবরই ঢাকা পোস্টের কাছে অগ্রগণ্য।
গণমাধ্যম হিসেবে পাঁচ বছর মোটেও বেশি নয়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা পোস্ট নিজেদের স্বাতন্ত্র্যতা তৈরি করতে পেরেছে। দেশীয় খেলার দ্রুত ও অধিক সংবাদ প্রকাশ ঢাকা পোস্টকে আলাদা জায়গা দিয়েছে গণমাধ্যমে। সংবাদ সম্মেলন বা কোনো মিটিং শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকা পোস্ট সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঢাকা পোস্ট তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক সংবাদও করে থাকে। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে আনার পরিকল্পনা ছিল বাফুফের। শেষ পর্যন্ত আনতে না পারার সংবাদটি ঢাকা পোস্ট সবার আগে প্রকাশ করে। গত পাঁচ বছরে এ রকম অসংখ্য সংবাদই ঢাকা পোস্টের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে অবগত হয়েছে।
দেশে অনুষ্ঠিত জাতীয়-আন্তর্জাতিক সব খেলায় সরব উপস্থিতি থাকে ঢাকা পোস্টের। দেশের বাইরেও অনেক টুর্নামেন্ট বা গেমস গুরুত্ব সহকারে কাভার করে ঢাকা পোস্ট। গত পাঁচ বছরে মালদ্বীপে সাফ ফুটবল, তুরস্কে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস, অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ ক্রিকেট, কাতারে ফিফা বিশ্বকাপ, প্যারিস অলিম্পিক ও চীনের হাংজু এশিয়ান গেমসে ঢাকা পোস্টের উপস্থিতি ছিল।
গত পাঁচ বছরে একটি ফুটবল বিশ্বকাপ, ইউরো কাপ এবং একাধিক ক্রিকেটের বৈশ্বিক ইভেন্ট ছিল। প্রতিটি আসরেই ঢাকা পোস্ট আলাদা আয়োজন করেছে। পাঠকদের কাছে খুঁটিনাটি খবর পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কুইজের মাধ্যমে পাঠককে পুরস্কৃতও করা হয়েছে।
ঢাকা পোস্ট সব সময় সব খেলার মাঠে থাকার চেষ্টা করে। দেশে অনুষ্ঠিত জাতীয়-আন্তর্জাতিক সকল খেলায় সরব উপস্থিতি থাকে ঢাকা পোস্টের। দেশের বাইরেও অনেক টুর্নামেন্ট/গেমস গুরুত্ব সহকারে কাভার করে ঢাকা পোস্ট। গত পাঁচ বছরে মালদ্বীপে সাফ ফুটবল, তুরস্কে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস, অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আরব আমিরাতে এশিয়া কাপ ক্রিকেট, কাতারে ফিফা বিশ্বকাপ, প্যারিস অলিম্পিক ও চীনের হাংজু এশিয়ান গেমসে ঢাকা পোস্টের উপস্থিতি ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ঐ দেশগুলোর ক্রীড়া অবকাঠামো-সংস্কৃতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ উঠে আসে ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে।
ঢাকা পোস্টের স্লোগান ‘সত্যের সঙ্গে সঙ্গী’। ক্রীড়া বিভাগ নিউজের বস্তুনিষ্ঠতার ব্যাপারে শতভাগ সচেতন। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংবাদই পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য না হলে ঢাকা পোস্ট প্রকাশ করে না। ঢাকা পোস্টের ক্রীড়া বিভাগও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করে। সতর্কতার পরও অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল মাঝে মধ্যে হলেও দ্রুত সংশোধন করা হয়। ঢাকা পোস্টের পাঁচ বছর ক্রীড়া বিভাগ কেমন এটার প্রকৃত বিচারের ভার পাঠকের। আগামীর পথ কেমন দেখতে চান সেটার পাথেয়ও আপনারা।
এজেড/এফআই