সমর্থকদের আবেগ ও ঢাকা পোস্ট : ডিজিটাল যুগের স্পোর্টস কমিউনিটি

প্রখ্যাত দার্শনিক মার্শাল ম্যাকলুহানের তত্ত্ব অনুসারে–আমরা একটি বিশ্বগ্রামের নাগরিক। ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তৃতি বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে এক সুতোয় গেঁথেছে। নানা রুচির মানুষদের আবার একই ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে সংবাদমাধ্যম। বিশেষ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জনপ্রিয়তার এই সময়ে সেই কাজটাই নিখুঁতভাবে করে চলেছে ঢাকা পোস্ট।
খবর ‘পচনশীল’ পণ্য, অনলাইনে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রবাহ করা যায় বলে সেই সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করে বলা সমীচীন। এখন খবর সেই গরম খাবারের মতো, যা উত্তাপ থাকতেই পাঠকের সামনে পরিবেশন করে ফেলতে হয়। অন্যথায় সেই খবরের আর গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। ফলে প্রতিযোগিতায় সামনের কাতারে থেকে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে বদ্ধপরিকর ঢাকা পোস্ট। অন্যতম পাঠকপ্রিয় এই মাধ্যমের প্রতিটি বিভাগ পৃথকভাবে একেকটি ডিজিটাল সমাজ বা কমিউনিটি তৈরি করেছে।
ঢাকা পোস্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘খেলা’। যার সঙ্গে মিশে রয়েছে অসংখ্য মানুষের আবেগ। দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় সব খেলার তাৎক্ষণিক আপডেট, তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ, ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনা এবং মানবিক গল্পের সমন্বয়ে একটি সক্রিয় ডিজিটাল কমিউনিটি তৈরি করেছে। বিশ্বগ্রামের ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে দেশ-বিদেশের ক্রীড়া অঙ্গনের খবর এক প্ল্যাটফর্মে এনে পাঠকদের সঙ্গে যুক্ত রাখাই এই বিভাগের প্রধান শক্তি।
উদাহরণস্বরূপ– ‘বাংলাদেশের রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ নিশ্চিত’ সংবাদে ম্যাচের প্রধান পারফরমার, নানা নাটকীয় দিক, ম্যাচ ও সিরিজ জয়ে নির্ধারক মুহূর্ত এবং টার্নিং পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে থাকে রেকর্ড এবং অপরাপর ম্যাচের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ। পাশাপাশি উভয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া কিংবা উত্তেজনা সৃষ্টি করে এমন কোনো ঘটনার বর্ণনা পাঠকদের আরও যুক্ত রাখে। যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তারা প্রতিনিয়ত প্রতিক্রিয়া দেখান। এতে পাঠক শুধু খবরই পান না, পাশাপাশি প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণও তাদের কাছে স্পষ্ট থাকে।
একইভাবে ফুটবল ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচ রিপোর্ট, পরিসংখ্যান এবং বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে পাঠকদের চাহিদা নির্দিষ্ট কোনো আলোচিত ঘটনার নেপথ্য কারণ ও পূঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ। রেফারি কিংবা আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক, যা নিয়ে ফিফা বা আইসিসির নিয়মে কী বলা হয়েছে তা যাছাই করে সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। আলোচিত এবং ব্যতিক্রমী এসব খবর নিয়ে পাঠকরা সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হতে দেখা যায়।
এর বাইরে পাঠকদের অন্যতম পছন্দের বিষয় ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ড, পরিসংখ্যান ও ইতিহাস। যা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করে ঢাকা পোস্ট। খেলার বাইরের মানবিক গল্পও গুরুত্ব পায়। কোনো তরুণ খেলোয়াড়ের সংগ্রাম, পরিবার ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সাফল্যের কাহিনি তুলে ধরার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম ও পাঠকদের এই কমিউনিটি আরও সচল হয়ে উঠে। উভয়পক্ষের মিথস্ক্রিয়া কেবল ফলাফল-ভিত্তিক নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাঠকরাই ঠিক করে দেন কোন দৃষ্টিকোণ ও প্রেক্ষাপটে সংবাদ হতে পারে। সবমিলিয়ে একটি আত্মিক বন্ধনও গড়ে উঠে পাঠক এবং নির্দিষ্ট খেলোয়াড় বা অ্যাথলেটের। যার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকে ঢাকা পোস্টের মতো গণমাধ্যম।
এএইচএস/এফআই