সুনামগঞ্জে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না। এবারের বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার পুরোটাই প্লাবিত হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দেখা দিয়েছে বন্যাপরবর্তী বিভিন্ন রোগ। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে মানুষের।

জেলাজুড়ে ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। নারী, শিশু ও বয়স্ক— সবাই আক্রান্ত হচ্ছে এসব রোগে। সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে তারা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। এক সপ্তাহে জেলায় ৪৪৬ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগ মোকাবিলায় জেলায় ১২৩টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুন) বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুধু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি আছে ১৩০ রোগী। তাদের মধ্যে শুধু মঙ্গলবার (২৮ জুন) ভর্তি হয়েছে ৪০ জন। এ ছাড়া জ্বর, সর্দি, নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশু বিভাগে ভর্তি আছে ৪১ শিশু।

হাসপাতালের স্বাস্থকর্মীরা জানান, এত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এক সিটে দুজন, তিনজন করে রোগীকে জায়গা দিতে হচ্ছে। অনেকে জায়গা না পেয়ে থাকছেন ফ্লোরে। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩৭টি সিটের বিপরীতে রোগী আছে ১৩০ জন। জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই নিচে ফ্লোরে থাকতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, বন্যার পর থেকেই প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ডায়রিয়া রোগের দেখা দিয়েছে। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে খেয়েছেন অনিরাপদ পানি। এতে ডায়রিয়া, কলেরা আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত হয়ে কেউ কেউ বাসা-বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাদের অবস্থা বেশি খারাপ হচ্ছে, তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিশ্বম্ভপুর উপজেলার চালবন গ্রামের জহুরা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘরে বুক পর্যন্ত পানি ছিল। পানি কমার পর আমরা সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবাই এখন কষ্টে আছি।

একই উপজেলার জামিলা খাতুন বলেন, আমার মা অসুস্থ। হঠাৎ ডায়রিয়া হয়ে গেছে। পরে হাসপাতালে এসে দেখি জায়গা নাই। বাধ্য হয়েই নিচে মাকে রেখেছি।

দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ির, জহুর আহমেদ বলেন, ঘর থেকে পানি নামার পর সর্বনাশ দেখা দিয়েছে। ডায়রিয়া, জ্বরে আমার মায়ের মতো হাজার হাজার মানুষ ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। 

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন বলেছেন, সুনামগঞ্জে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। বেশির ভাগ পানি দূষিত হয়ে গেছে। যে কারণে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। তবে এখনো সে রকম প্রাদুর্ভাব দেখতে পাইনি। আগের থেকে রোগীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ছে। এক সপ্তাহে ৪৪৬ রোগী ভর্তি হয়েছে। পানিবাহিত কিছু চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।

মেডিকেল টিম বিষয়ে তিনি বলেন, পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় ১২৩টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। খাবার স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছে তারা। জনস্বাস্থ্য বিভাগও বিশুদ্ধ পানির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

এনএ