রাজস্ব ফাঁকি এবং সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোলের অবৈধ ব্যবহার প্রতিরোধে কঠোর নজরদারিতে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সিগারেট ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোলের অতিরিক্ত উত্তোলন ও মজুদ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেটে  গত ১৩ জানুয়ারি  চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের মূসক বাস্তবায়ন বিভাগের প্রথম সচিব মো. বশীর আহমেদের সই করা চিঠি ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম এবং ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, যশোর, কুমিল্লা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর ও বৃহৎ করদাতা ইউনিটের কমিশনার বরাবর পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে,জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরেছে সিগারেট ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল উত্তোলনের মাসভিত্তিক গড় পরিমাণের তুলনায় কিছু কিছু সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত পরিমাণ ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল উত্তোলন করছে। 

এঅবস্থায় নতুন স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল সরবরাহ চলমান রাখার স্বার্থে কোনো সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল উত্তোলন কিংবা মজুদ করেছে কিনা তা নিয়মিত পর্যাবেক্ষণ করে প্রতিবেদন এনবিআরে প্রেরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হলো। 

এছাড়া  চিঠিতে সব সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল মজুদ সংক্রান্ত রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিতের  অনুরোধ করা হয়েছে।

তামাক কর আদায়ে স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোলের অবৈধ ব্যবহারে প্রতিবছর প্রায় ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব সরকার হারাচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।  
সম্প্রতি বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল আয়োজিত এক সেমিনারেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনগুলোর দাবি, রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে এনবিআরকে এমনভাবে প্যাকেটে স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল বসাতে হবে যাতে এগুলো দ্বিতীয়বার ব্যবহার করতে না পারে। একইসঙ্গে মনিটরিং ও ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব বোর্ড যাতে এগুলোর নজরদারি করতে পারে সেজন্য তাদের আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এনবিআরকে অখ্যাত যত তামাক কোম্পানি আছে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, কিছু কিছু সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত পরিমাণ ট্যাক্স স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল উত্তোলন করছে। কেন এটা হচ্ছে তা জানতেই নজরদারি বৃদ্ধির তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। আমরা ভালো ট্যাক্স পেয়ারদের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।

আরএম/ওএফ