সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলা একই আদালতে চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই মামলার বাদী, সাক্ষী, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।  

আজ (রোববার) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এ মামলার বিচারিক আদালত পরিবর্তন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মামলার বাদী।আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম লিটন বলেন, বাদী ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারায় আদালত পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সিলেটের অন্য কোনো ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য মামলাটি যেন বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে আদালত পরিবর্তনের এই আবেদন গ্রহণ করেননি। 

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ওই রাতেই ওই তরুণী স্বামী বাদী হয়ে শাহ পরান থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় আরেকটি মামলা করা হয়।

এ মামলায় গত ৩ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন। অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ অবস্থায় মামলাটির আদালত পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা হয়। 

এদিকে ছাত্রবাসে এই ধর্ষণের ঘটনায় হাইকোর্টে দাখিল করা যৌথ অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তাই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এমসি কলেজের অধ্যক্ষও কোনোভাবেই ওই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না।

এমএইচডি/এনএফ