প্রশান্ত কুমার হালদার

রিলায়েন্স ফিন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) বান্ধবী ও এক আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তলবকরাদের মধ্যে পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) এবং তার আত্মীয় শঙ্খ বেপারীকে আগামী ৪ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা ও কমিশনের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। দুদকের জনসংযোগ দফতর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে দুদকসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পি কে হালদার, তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী অবন্তিকা বড়াল মিলে প্রথমে ‘সুখদা’ নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ‘সুখদা’র শেয়ার দিয়ে খোলেন ‘হাল’ ইন্টারন্যাশনাল। এই হালের পরিচালক হন প্রীতিশ ও তার স্ত্রী সুস্মিতা। আবার এই ‘হালের’ ৯০ ভাগ শেয়ারের মালিক হন সুখদার পক্ষে প্রশান্তের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অবন্তিকা। ‘হাল’ ক্যাপিটালের ৯০ ভাগ শেয়ারের মালিক থাকে হাল ইন্টারন্যাশনাল। বাকি ১০ ভাগ রাখা হয় হাল ক্যাপিটালের দুই কর্মচারীর নামে। তারাই হাল ক্যাপিটালের নামে আগে থেকে বিদ্যমান মাইক্রোটেকনোলজি নামে একটি কোম্পানির শেয়ার কেনেন। যার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, পিকে হালদারের আত্মীয় বলে পরিচিত শঙ্খ বেপারীর নামে রাজধানীতে একটি ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছে দুদক। যার সঙ্গে পি কে হালদারের সম্পৃক্ততার রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই তাদের তলব করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা যায়।

আলোচিত পি কে হালদার চক্রের প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্ধশত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। গত ১০ আগস্ট পি কে হালদারসহ পাঁচজনকে তলব করেছিল দুদক। যদিও পি কে হালদার অনেক আগেই দেশ থেকে পালিয়েছেন। মাঝে পি কে হালদার দেশে ফেরার জন্য আদালতে আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত আর দেশে ফিরেননি তিনি।

এরই মধ্যে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি পি কে হালদার ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিসহ ৮৩ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পি কে হালদার ওই প্রতিষ্ঠানসহ পিপলস লিজিং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) দায়িত্ব পালন করে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন।   

এরই মধ‌্যে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

আরএম/এফআর