বাংলাদেশে পেশাদার ফুটবল লিগের যাত্রা এক যুগের বেশি সময়। এত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ক্লাব নিজস্ব ভেন্যু করতে পারেনি। তিন বছর আগে প্রিমিয়ার ফুটবলে আগমন হওয়া বসুন্ধরা কিংস এবার নিজেদের কমপ্লেক্সেই খেলতে যাচ্ছে। ঘরোয়া ফুটবলে সেই অর্থে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের সংস্কৃতি চালু নেই। বসুন্ধরা নতুন ক্লাব হলেও দেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করছে।
 
আজ বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটির সভায় বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সকে আসন্ন লিগের ভেন্যু হিসেবে বিবেচিত হয়। বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘ঢাকার বাইরে ছয়টি ভেন্যুর সঙ্গে এবার বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স থাকছে। বাফুফের একটি প্রতিনিধি দল গিয়ে মাঠ, যাতায়াত ব্যবস্থা, প্রেসবক্স, গ্যালারি সব কিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখেছে। কিছু কাজ বাকি রয়েছে যেটা এই মাসের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে।’

২৫ জানুয়ারি বাফুফে প্রতিনিধি দল পরিবদর্শন করবে। সেই পরিদর্শনের পর তারা আরেকটি প্রতিবেদন দেবে। 

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স আবাসিক এলাকার মধ্যে। জনসাধারণের প্রবেশাধিকার কিছুটা নিয়ম নীতি রয়েছে। ফুটবল ম্যাচের সময় বসুন্ধরার নিয়ম-নীতির শিথিল থাকবে বলে জানান লিগ কমিটির চেয়ারম্যান, ‘এই ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের প্রতিনিধির সঙ্গে। ফুটবল সমর্থকরা যেন নির্বিঘ্নে খেলা দেখতে পারে সেই ব্যবস্থা তারা করবেন।’

লিগ কমিটির সভায় বসুন্ধরা কিংসের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন আহমেদ শায়েক। তিনি তাদের কমপ্লেক্স ও ম্যাচের সার্বিক বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের গ্যালারির ধারণ ক্ষমতা মূলত ১৪ হাজার। তবে এখন আপাতত ১০ হাজার। এর মধ্যে সাত শতাংশ অ্যাওয়ে দলের জন্য থাকবে। সেভাবে গ্যালারি করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের আনুষাঙ্গিক কাজ কিছু দিনের মধ্যেই সম্পন্ন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রবেশের পর আমাদের লোকবল থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের গাইড দিয়ে কমপ্লেক্সে প্রবেশের জন্য।’

জাতীয় দলের ইন্দোনেশিয়া সফর বাতিল হলেও ঘরোয়া লিগ এগিয়ে আসছে না। ২৭ জানুয়ারি থেকে লিগ শুরুর একটি প্রস্তাবনা আসলেও সেটি হচ্ছে না। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই লিগ শুরু হচ্ছে। এবারের লিগ হবে বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স, কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম, রাজশাহীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়াম, মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ লে.মতিউর রহমান স্টেডিয়াম, গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়াম, টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ স্টেডিয়াম ও সিলেটের জেলা স্টেডিয়াম। কুমিল্লা স্টেডিয়ামের খেলা হবে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। অন্য ভেন্যুগুলোতে খেলা প্রথম রাউন্ড থেকেই শুরু হবে।  

এজেড/এটি/এনইউ