ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আর্থিক অনিয়ম পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চারটি সরকারি সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সংস্থা চারটি হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

রোববার (৪ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের পরিচালক-৩ ও যুগ্ম-সচিব খলিলুর রহমান এ চিঠি দেন। এতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালি ডট কম নামে একটি ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করে এবং এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করে। 
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে, ১৪ মার্চ তারিখে ইভ্যালি ডট কম এর মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা ( চলতি সম্পদ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা।

উক্ত তারিখে ইভ্যালি ডট কম এর গ্রাহকের নিকট দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্ট এর নিকট দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। গ্রাহকের নিকট থেকে অগ্রিম হিসেবে গৃহীত ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির নিকট ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির নিকট চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও প্রতীয়মান হয় যে, ইভ্যালি ডট কম এর চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। বাকি গ্রাহক এবং মার্চেন্ট এর পাওনা পরিশোধ করা উক্ত কোম্পানির পক্ষে সম্ভবপর নয়। তদুপরি গ্রাহক ও মার্চেন্ট এর নিকট হতে গৃহীত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকার কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে গ্রাহক ও মার্চেন্ট এর নিকট হতে গৃহীত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকা আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। 

বর্ণিত অবস্থায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালি ডট কম এর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কোনো আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।  

এনএম/আরএইচ