পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) লিমিটেড চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি মুনাফা (ইপিএস) দেখিয়েছে ৭৯ পয়সা। ব্যাংকটির এর আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৪১ পয়সা। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মুনাফা আগের বছরের চেয়ে ৩৮ পয়সা, আর শতাংশের হিসেবে ৯৩ শতাংশ বেশি।

রোববার (১৮ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ডিএসইর তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ২৩ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৭৯ পয়সা।

অর্থাৎ ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএসের গ্রোথ হয়েছে প্রায় তিনগুণ। যা বিস্ময়কর বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর তথ্য মতে, ১৯৮৬ সালে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি২১-জুন২১) সমন্বিত ইপিএস দেখিয়েছে ১ টাকা ২ পয়সা। যা এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭২ পয়সা। অর্থাৎ ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের চেয়ে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ৩০ পয়সা বা ৪২ শতাংশ।

এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় অর্থাৎ ইপিএস হয়েছে ৭৯ পয়সা। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৮ পয়সা বেশি। ইপিএস বাড়ায় ২০২১ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৩৫ পয়সা।

এদিকে রোববার মুনাফা প্রকাশের দিনেও কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে। বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার ১৬ টাকায় লেনদেন হয়েছিল। আজ শেয়ারটির দাম ১০ পয়সা কমে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা লেনদেন শুরু হয়।

এ বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মতিন পাটোয়ারী ঢাকা পোস্টকে বলেন, খালি চোখে দেখে সবার মনেই প্রশ্ন হবে এত বড় গ্রোথ কীভাবে হয়েছে। এখানে কিছু একটা হয়েছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে ডিএসইর সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে, তারা দেখবে।

মুনাফার বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ব্যাংকটির কোম্পানি সচিব এটিএম তাহমিদুজ্জামানের সঙ্গে।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ১২১ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার ৯০৫টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে রয়েছে কোম্পানির ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার, সরকারের কাছে রয়েছে দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার। এছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ, বিদেশিদের কাছে রয়েছে দশমিক ৮০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাত রয়েছে ৪১ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার। 

ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ আর ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ছিল।

এমআই/জেডএস